শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি:: ঢাকার কেরানীগঞ্জে জাবালে নুর টাওয়ারের ভূগর্ভস্থ কাপড়ের গুদামে লাগা আগুন ৯ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের আরও ছয়টি ইউনিট যোগ দেওয়ায় বর্তমানে মোট ২০টি ইউনিট অগ্নিনির্বাপণে কাজ করছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর এলাকায় বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতু (বাবুবাজার সেতু) সংলগ্ন ১০ তলা জাবালে নুর টাওয়ারের ভূগর্ভস্থ গুদামে আগুনের সূত্রপাত হয়। বিকেল তিনটা পর্যন্ত এ প্রতিবেদন লেখা সময়েও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভবনটির মালিক নুরে আলম ও মো. ফারুক হোসেন। ভবনের ভূগর্ভস্থ, প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় কাপড়ের গুদাম ও দোকান রয়েছে। তৃতীয় তলা থেকে দশম তলা পর্যন্ত আবাসিক ফ্ল্যাট। অভিযোগ রয়েছে, ভবনটি নির্মাণের সময় যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। এ ছাড়া ভবনে অগ্নিনির্বাপণের কোন ব্যবস্থা ছিল না।
বিকেল তিনটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের বাসিন্দারা পাশের ইমামবাড়ি আগানগরের উঁচু কবরস্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। আগুনের খবর পেয়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমাচ্ছেন।
ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা গৃহবধূ সালেহা বেগম বলেন, ভোরে প্রতিবেশীদের চিৎকার শুনে ঘুম থেকে জেগে উঠি। তখন জানালা খুলে ধোঁয়া দেখতে পাই। কিন্তু বাসা থেকে বের হতে পারছিলাম না। একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিস ও পল্লী বিদ্যুৎয়ের অফিসারদের সহায়তায় জানালার গ্রিল কেটে ফ্ল্যাট থেকে বের হই। কিন্তু আমাদের মালামাল ঘরেই রয়েছে।
আরেক বাসিন্দা শফিউল আলম বলেন, আমরা আগুনের কালো ধোঁয়ার কারণে নিশ্বাস নিতে পারছিলাম না। হুড়োহুড়ি অবস্থার মধ্যে কোন রকম স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বাইরে বের হয়ে এসেছি। যদি আমাদের বের হতে আরও সময় লাগতো তাহলে হয়তো কেউই বেঁচে ফিরতে পারতাম না।
এ ঘটনায় দুপুরে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফতাব আহমেদকে আহ্বায়ক করা হয়। গঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুর রহমান, কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, কলকারখানা পরিদর্শক অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক ওয়াহিদুল হক ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত)। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্যে বলা হয়েছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক বলেন, ভবনটির অনুমোদন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফলতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (গণমাধ্যম ) শাহজাহান শিকদার বলেন, গুদাম ও দোকানগুলোর তালা, শাটার ও কলাপসিবল গেট কেটে আগুন নেভাতে হচ্ছে। ভেতরে বিপুল পরিমাণ কাপড় ও দাহ্য সামগ্রী থাকায় এবং ঘন ধোঁয়ার কারণে অগ্নিনির্বাপণে বেগ পেতে হচ্ছে। এ কারণে তিনটি ব্রিদিং টেন্ডার ও একটি হ্যাজম্যাট টেন্ডারসহ ২০টি ইউনিট কাজ করছে। এখন পর্যন্ত ভবন থেকে ৪৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমের নেতৃত্বে থাকা ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ভোর ৫টা ৩৭ মিনিটে আগুনের খবর পাওয়ার পর আট মিনিটের মধ্যেই প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।